পাগড়ীর প্রয়োজনীয়তা এবং পাজামার প্রয়োজনীয়তা এক হতে পারে কি?

পাগড়ী প্রয়োজন, পাজামা জরুরী। আমাদেরকে পাগড়ী পাজামার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হবে। আমরা পরিধানে পাজামা তথা বস্ত্র পরে থাকি আব্রু ঢাকার জন্য তথা ছতর ঢাকার জন্য। মাথায় পাগড়ী পরে থাকি টুপির উপর- নামাজের সওয়াব বাড়াতে। পাগড়ী পরে নামাজ পড়লে সাতাশগুন সওয়াব নেকী তথা পূন্য মিলবে। পাগড়ীর প্রয়োজন সওয়াব নেকী বাড়াতে যা হচেছ নফল। আর পাজামা প্রয়োজন ছতর ঢাকতে যা হচেছ ফরয। মহানবী (সাঃ)এরশাদ করেন- লক্ষ নফল দিয়েও একটি ফরজের সমান হবে না। দোয়া দুরুদ পাঠ করে সওয়াব অর্জন করা হচেছ নেকী বা নফল। এ নফলকে মাথায় পাগড়ী পরার সাথে তুলনা করা যায়। আর হিংসা- বিদ্বেষ, গর্ব- অহংকার পরিত্যাগ করে লোভ লালসা বর্জন করে আত্মীয়- প্রতিবেশীর সংগে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য প্রানপন প্রচেষ্টা করা হচ্ছে পরিধানে বস্ত্র পরার ন্যায়।

প্রান-পণ প্রচেষ্টা করাকে ইসলামের পরিভাষায় জিহাদ বলা হয়। সমুদ্রের পানির তুলনায় এক ফোটা পানির মূল্য যতটা, জিহাদের তুলনায় সমস্ত নেক আমল সৎ কাজের মূল্য ততটা। ওহে পাঠকবৃন্দ আমরা আগে সওয়াব অর্জনও সৎ কাজের তথা পাজামা ও পাগড়ীর গুরূত্ব বুঝে নেয়ার চেষ্টা করি। যেমনঃ-
১. মিলাদ পড়ে –সওয়াব অর্জন করা হচ্ছে মাথায় টুপির উপরে পাগড়ী পরার ন্যায়। আর মনোমালিন্য, ঝগড়া- বিবাদ মিমাংসার মত ন্যায় তথা সৎ কাজ করে নেয়া বা দেয়া হচ্ছে পরনে পাজামা পরার ন্যায়। যে সমস্ত মিলাদে মনোমালিন্য মিমাংসা করার গুরুত্ব আলোচনা করা হয় না, তাগিদ দেয়া হয় না ঐসকল মিলাদ থেকেই মারামারি তৈরীর ক্ষেত্র তৈরী হয়ে থাকে।

২.কুরআন পাক তেলাওয়াত (অর্থ না বুঝে-তোতা পাখীর মত) করা দরকার, যা হচ্ছে মাথায় পাগড়ী পরার অনুরূপ। কুরআন পাক তরজমা তাফসীর পড়ে জ্ঞান চর্চা করা জরুরী যা হচ্ছে পরনে পাজামা পরার অনুরূপ।

যে সমস্ত ধার্মিক ব্যক্তিগন তিন মিনিট সময় ধরে কুরআন পাক তেলওয়াত করেন অথচ এক মিনিট সময় ধরে তরজমা তাফসীর পড়ে জ্ঞান চর্চা করেন না, তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে পড়লেও তারা ধর্মভীরু নন,তারা হচ্ছে ধর্মান্ধ। এই ধর্মান্ধতার বীজেই ধর্মসন্ত্রাসী তৈরী হয়েছে।
৩.মসজিদের উন্নয়ন দরকার,মানুষের উন্নয়ন জরুরী। মসজিদ মোজাইকে অর্থ খরচ হচেছ মাথায় টুপির উপর পাগড়ী পরার ন্যায়। আর মানুষের উন্নয়নে নিরাপদ পানি সরবরাহে পি,এস,এফ মেরামতে চাঁদা প্রদান করা হচেছ পরনে পাজামা পরার ন্যায়।

যে সমস্ত ধার্মিক ব্যক্তিগণ মসজিদ মোজাইকে অর্থ খরচে পেরেশাণ অথচ মানুষের উন্নয়নে পি,এস,এফ মেরামতে চাঁদা প্রদানে উদাসীন তারা পাঁচ ওয়াক্ত জামায়াতে পড়লে ও তারা প্রকৃত ধার্মিক নন ,তারা হচেছন দৃশ্যতঃ ধার্মিক। তারা প্রকৃত পরহেজগার নন, তারা হচেছ পোশাকে পরহেজগার।

৪. সওয়াব অর্জন করা হচ্ছে মাথায় পাগড়ী পরার ন্যায়। সৎ কাজ করা হচ্ছে পরনে পাজামা পরার ন্যায়। শতকরা কতটি মসজিদে ২৪ ঘন্টায় ৪ মিনিট সময় ধরে সৎ কাজে সাধ্যমত সাহায্য করায় প্রেরনা দেয়া হয়ে থাকে?

সওয়াব অর্জন করা হচ্ছে মাথায় পাগড়ী পরা। সৎ কাজে উপদেশ দেয়া তথা পি,এস,এফ মেরামতসহ বিভিন্ন সৎ কাজে উপদেশ দেয়ায় প্রেরনা দেয়া হচ্ছে পরনে পাজামা। যে সমস্ত ধার্মিক ব্যক্তিগন সওয়াব অর্জনে সচেষ্ট অথচ এক মিনিট সময় ধরে সৎ কাজ করার গুরুত্ব আলোচনা করেন না, তাগিদ প্রদান করেন না। তারাই আমাদেরকে সৎ কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন।

যে সমস্ত ইমাম সাহেবগন সওয়াব অর্জনে তাগিদ দেন অথচ সৎ কাজে সাধ্যমত সাহায্য করার বিষয়ে তাগিদ দেন না,তাদের উসিলায় সৎ কাজের ক্ষেত্র দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।

৫. যে সকল বক্তাগন তাদের বয়ানে পি, এস, এফ, মেরামতের মত সৎকাজে সুযোগ মত উপদেশ দিতে প্রেরনা দেন না, তাদের উসিলায় পি,এস,এফগুলো অচল হয়ে পড়েছে। কোন তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে পি, এস,এফ মেরামতের গুরুত্ব আলোচনা করতে দেখেছেন? সৎ কাজ নিজে করা, অন্যের সৎকাজে সাধ্যমত সাহায্য করা , সৎ কাজে উপদেশ দেয়ার বিষয় গুলো ঊপেক্ষিত হওয়ার কারনে সৎ কাজের দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে । কেননা যা বয়ানে প্রাধান্য পায় না তা কি করে বাস্তবায়নে
প্রাধান্য পাবে? ধরা যাক নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি।
মোরেলগজ্ঞের মারাত্মক দুটি সমস্যার বিষয় বিবেচনা করলেও তার মধ্যে একটি হচ্ছে নিরাপদ পানির অপ্রতুলতা এবং অব্যবস্থাপনা। নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় পুকুর পাড়ে বালির ফিল্টারে যে প্রযুক্তিটি দেখছেন তা হচ্ছে পি,এস,এফ। যেহেতু মোরেলগজ্ঞের ৯০% মানুষ পুকুরের পানি পান করেন, তাই তাদেরকে পি,এস,এফ্ প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে বাজারে এসেছে কানাডা-বাংলাদেশ ওয়াটার ফিল্টার যা পি,এস,এফ প্রযুক্তির বিকল্প (একই ধরনের প্রযুক্তি)প্রযুক্তি। পি,এস,এফ হচেছ পুকুর পাড়ে বালির ফিল্টার,যাতে কল চেপে পানি ভরে দিতে হয়। আর কানাডা-বাংলাদেশ ওয়াটার ফিল্টারে কলসীতে করে ফিল্টারে পানি ভরে দিতে হয়। ঘন্টায় বিশ লিটার পানি ফিল্টার হয় বলে এ ফিল্টার ৫/৭টি পরিবার মিলেও ব্যবহার করা সম্ভব এবং এর নামকরণ করা হয়েছে বিশুদ্ধ।
নিরাপদ পানির অপর নাম জীবন। নিরাপদ পানির ব্যবস্থাপনা নিশ্চয় একটি সৎ কাজ। সূরা হাশর পাঠ করে, দোয়া-দরুদ পাঠ করে, মিলাদ পড়ে সওয়াব অর্জন করা যাবে ঠিকই তবে তার মূল্য হচেছ মার্বেল তুল্য। আর নিরাপদ পানির ব্যবস্থাপনায় পি,এস,এফ সচল রাখতে কমিটি গঠন করতে আলাপ-আলোচনা করা হচেছ মূক্তা তূল্য।

শিশু যেমন মূক্তার তুলনায় মার্বেলে তৃপ্ত, বাংলাদেশের শিশু নামাযীগণ সৎ কাজের তুলনায় সওয়াব অর্জনে সচেষ্ট, সনদ পত্রে সন্তষ্ট-সৎকাজে উপদেশ দিতে ও যাদের কষ্ট, তাদের ধর্ম-কর্মে শয়তান হচেছ সন্তষ্ট। সৎ কাজে উপদেশ দেয়া ছাড়া সৎকাজের প্রসার ঘটে না। সৎ কাজে উপদেশ না দিলে জনগণকে সচেতন করা যায় না। আর সচেতনতা ছাড়া সৎ কাজের সফলতা আশা করা যায় না। যারা সচেতন তারাই সচেষ্ট। সচেতন হওয়ার জন্য সনদপত্র জরুরী নয়। সচেতনতাবোধ জরুরী। একখন্ড চুম্বকের সংস্পর্শে যেমন একটি আলপিন চুম্বকের গুণ অর্জন করতে পারে,তদ্রুপ একজন সচেতন ব্যক্তির সোহবতে একজন নিরর ভ্যানওয়ালাও সচেতন হতে পারে।

মোরেলগজ্ঞে যোগদানের পর থেকে প্রায় প্রতি শুক্রবার কোন না কোন মসজিদে গিয়ে পি,এস,এফ এর উপর আলোচনা করে থাকি এবং এহেন সৎ কাজে সাহায্য সহযোগিতা চেয়ে বেড়াচ্ছি। মসজিদের অনতিদূরে অনেক পি,এস,এফ ও অচল। এমন কি সিডরের পরে এন,জিওদের মেরামত করে দেয়া পি,এস,এফ ও অচল হয়ে পড়েছে।

মসজিদের মুসল্লীগনকে সচেতন করার জন্য আমি একটি প্রবন্ধ লিখেছি যার শিরোনাম হচ্ছে- মসজিদ মেরামতে (মোজাইকে) দশ টাকা দানের তুলনায় পি,এস,এফ মেরামতে এক টাকা দানের সওয়াব বেশী। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই আমি এ শিরোনাম ব্যবহার করেছি।

মসজিদ মোজাইকের কাজ মানুষের কোন মৌলিক প্রয়োজন নয়। মসজিদ মোজাইক করলে মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়- মন ভাল লাগে নামায পড়তে ,যা হচ্ছে মাথায় টুপির উপর পাগড়ী পরা। আর পি,এস,এফ মেরামত করা হচ্ছে পরণে পাজামা পরার ন্যায়। পাঠকই বলুন পরণে পাজামা জরুরী না পাগড়ী জরুরী ?

নিরাপদ পানির অপর নাম জীবন যা আমরা অহরহ বলে ও থাকি। জীবন বাঁচাতে যে প্রচেষ্টা আমরা করে থাকি, নিরাপদ পানির ব্যবস্থাপনায় ও সে ধরনের প্রচেষ্টা করা উচিত কি ? যারা জরুরী বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, তারা হচ্ছেন জ্ঞানী ব্যক্তি। সচেতন ব্যক্তিগণ যেমন সোনার মূল্য জানেন তেমনি জ্ঞানী ব্যক্তিগণ নিরাপদ পানির গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

অত্র মোরেলগঞ্জ উপজেলায় যদি মারাত্মক দু’টি সমস্যার কথাও আমরা বিবেচনা করি তবে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নিরাপদ পানির অভাব। অত্র উপজেলায় গভীর/অগভীর নলকূপ অসফল। কিছু কিছু পকেট এলাকা রয়েছে (যা পরীক্ষামূলক নলকূপ স্থাপন করে খুজে বের করতে হবে) যেখানে অগভীর/অতি অগভীর আচ্ছাদিত নলকূপ স্থাপন করা যায়। কোন দোকানে যেমন সকল পণ্য পাওয়া যায় না তদ্রুপ কোন শিক্ষক ও সকল বিষয়ে সচেতন নন। নিরাপদ পানি সরবরাহ বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ন ও জটিল প্রযুক্তি। অত্র লবনাক্ত এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহে পি,এস,এফ একটি সহজ ও গ্রহনযোগ্য প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তিকে সার্বজনীন করার জন্য আমি রাত জেগে সাহিত্য রচনা করে চলেছি। কেননা সাহিত্যই পারে প্রযুক্তিকে সার্বজনীন করতে।

বাস্তবে মসজিদ মেরামতে তথা মসজিদের মোজাইক করায় মুসল্লীদের যতটা প্রচেষ্টা রয়েছে, পেরেশাণী রয়েছে, তার পাস নম্বরে (৩৩%) কি পেরেশাণী রয়েছে অচল পি,এস,এফ টি মেরামত করে সচল করার ক্ষেত্রে।

আসুন আমরা সকল দলমত ভূলে গিয়ে পিএস,এফ সচল রাখতে কমিটি গঠণ করে কমিউনিটি থেকে কন্ট্রিবিউশন আদায় করে পি,এস,এফ টি সচল রাখতে প্রানপণ প্রচেষ্টা করি।

প্রনয়নে প্রকৌশলী মোঃআজিজুর রহমান পাটকেলঘাটা,তালা সাতক্ষীরা।
বিঃদ্রঃ পি,এস,এফ(পন্ড স্যান্ড ফিল্টার-যা পুকুরের পানিকে বিশোধন করে থাকে)

0 comments: