আমার লেখনীর উদ্দেশ্য হচেছ -সমাজে কি করে সচেতন ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ানো যায়

সমাজে সচেতন ব্যক্তির সংখ্যা বাড়াতে হবে। কেননা যে সমাজে সচেতন ব্যক্তির সংখ্যা যত বেশী- সে সমাজ তত সুসভ্য, সে জাতি উন্নত, সে দেশ তত সমৃদ্ধ। সুসভ্য সমাজের জন্য সচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়াতে হবে। উন্নত জাতি গঠনের জন্য সচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সমৃদ্ধ দেশ গঠনের জন্য ও সচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

সচেতন ব্যক্তির স্বভাবে রয়েছে সমঝোতাবোধ. সচেতন ব্যক্তির স্বভাবে রয়েছে স্বার্থত্যাগ। সমঝোতা ছাড়া সামাজিক শৃঙ্খলা আশা করা যায় না। সমঝোতা ছাড়া রাষ্ট্রীয় শৃঙখলা ও আশা করা যায় না। স্বার্থত্যাগ ছাড়া সামাজিক শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আশা করা যায় না। সচেতনতা হচ্ছে বড় সম্পদ,সচেতনতা হচ্ছে বড় শক্তি। সচেতন হওয়ার জন্য সনদপত্র জরুরী নয়, সচেতনতাবোধ জরুরী। সচেতন মানুষগুলো হচ্ছে সোনার মানুষ যারা সোনার চেয়ে ও দামী।

সচেতন মানুষ হচ্ছেন জ্ঞানী মানুষ। জ্ঞান চর্চা বাড়িয়ে সমাজে জ্ঞানী ব্যক্তির সংখ্যা বাড়াতে হবে। জ্ঞান চর্চার তিনটি মাধ্যম-পড়া, পরামর্শ ও চিন্তা-ভাবনা। সচেতন ব্যক্তি হচ্ছেন আলোকিত ব্যক্তি। একমাত্র আলোই পারে অন্ধকার দূর করতে। সচেতন ব্যক্তিই সৎ কাজে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। সচেতন ব্যক্তিই সৎ কাজে সুযোগমত উপদেশ দিয়ে থাকেন। কেননা তিনি জানেন যারা সচেতন তারাই সচেষ্ট। আলোকিত ব্যক্তি জানেন কোন কাজের মধ্যে আলো আছে। পি,এস,এফ সচল থাকার মধ্যে আলো রয়েছে। পি,এস,এফ(পন্ড স্যান্ড ফিল্টার-যা পুকুরের পানিকে বিশোধন করে থাকে) অচল থাকার মধ্যে অন্ধকার রয়েছে।

নিরাপদ পানির অপর নাম জীবন। উপকূলীয় এলাকায় আমরা নিরাপদ পানি পাই- পি,এস,এফ এর মাধ্যমে। একজন সচেতন ব্যক্তি জীবন বাঁচাতে যেমন সচেষ্ট হবেন, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় ও তেমনি সচেষ্ট হবেন। বাস্তবে কি দেখা যাচেছ তা একটু নিম্নে পর্যালোচনা করা যাকঃ-
এক হাজার এম,এ/কামিল/ইমাম সাহেবদের মধ্যে কতজন খুজে পাওয়া যাবে যারা দিন-রাত ২৪ ঘন্টায় চার মিনিট সময় ধরে নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় জনগণকে সচেতন করে থাকেন। এতে যদি কেউ বলতে চান- বাংলাদেশের এম এ/কামিল/ইমাম সাহেবগণ (২/১জন বাদে) নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সচেতন নন। কারণ সচেতন ব্যক্তির শ্রেষ্ঠ কাজ- সাধারণ জনগণকে সচেতন করা। যারা সচেতন তারাই সচেষ্ট।

একজন সচেতন ব্যক্তি নিরক্ষর হয়েও সে নামায পড়ার ন্যায় গুরুত্ব দিতে পারেন-উত্তম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে। অথচ অধিকাংশ নিয়মিত নামাযী ব্যক্তির স্বভাবে ও উত্তম ব্যবহারের বড় অভাব।

একজন সচেতন ব্যক্তি নিরক্ষর হলে ও তাকে ওয়াদার প্রতি সতর্ক থাকতে দেখা যায়। অথচ অধিকাংশ মসজিদের ইমাম সাহেবগণও ওয়াদার প্রতি উদাসীন।

একজন মুচিও অভাবী/একজন ক্ষুধার্ত লোককে খেতে দিতে এগিয়ে যান, অথচ অনেক পরহেজগার ব্যক্তিকে তার অভাবী পড়শীর খোজ-খবর নিতে দেখা যায় না। ধার ও দিতে চান না।

লক্ষ নামাযীর মধ্যে কতজন খুঁজে পাওয়া যাবে, যারা জানেন, নামায-রোযা পালনের ন্যায় আল্লাহর হুকুম উত্তম ব্যবহার করা, ওয়াদা পালন করা, আত্মীয়ের জন্য সম্পদ ব্যয় করা, অভাবীদের অভাব দূর করা। না জানা-ই হচ্ছে অজ্ঞতা। অন্ধকার দূর করতে যেমন আলো জ্বালাতে হবে, তেমনি অজ্ঞতা দূর করতেও নিয়মিত জ্ঞান চর্চা করতে হবে।
সুশিক্ষিত লোকগুলোই সচেতন যার জন্য সনদপত্র জরুরী নয়, সচেতনতাবোধ জরুরী। কোন মনীষী বলেছেন, দেশে সনদপত্রধারী শিক্ষিত (এম,এ/কামিল/ইমাম) লোকের সংখ্যা যত বাড়ছে, সমাজে সুশিক্ষিত লোকের সংখ্যা তত কমছে। বেড়ে চলেছে শিক্ষিত অহঙ্কারী লোকের সংখ্যা। এ ধরনের লোকের স্বভাবে অভাব রয়েছে সমঝোতার, যদি ও তারা কেউবা এম.এ. পাস। এ ধরনের লোকের স্বভাবে অভাব রয়েছে স্বার্থত্যাগের,যদি ও তারা কেউবা কামিল পাস। এ ধরনের লোকের স্বভাবে অভাব রয়েছে শ্রদ্ধাবোধের, যদি ও তারা মসজিদে ইমামতি করে থাকেন। এ ধরনের শিক্ষিত লোকগুলো ভাবেন না সমাজ –সভ্যতার উন্নয়নে। দেশে মাদ্রাসা বাড়ছে, ছাত্র বাড়ছে। মসজিদ বেড়েছে - মুসল্লী বেড়েছে, কমেছে জ্ঞানীর সংখ্যা। দেশে শিক্ষার হার যত বাড়ছে সমাজে জ্ঞানীর সংখ্যা তত কমছে। মুসলিম সমাজে জ্ঞানীর সংখ্যা বাড়াতে মসজিদে জ্ঞান চর্চার সময় বাড়াতে হবে। মসজিদে নববীতে নিয়মিত জ্ঞান চর্চা করা হত বলে, তখনকার মুসলিম সমাজে জ্ঞানী ব্যক্তির সংখ্যা বেশী ছিল। এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে আমি প্রায় পনেরটি প্রবন্ধ লিখেছি।
জনগণ অসচেতন তাই পি,এস,এফ-গুলো অচল। জনগণকে সচেতন করতে পারলে পি,এস,এফ সচল রাখা সম্ভব হবে। অনেক নিরক্ষর ব্যক্তি ও জানেন পি,এস,এফ তৈরী করা দরকার - পি,এস,এফ সচল রাখা জরুরী। পি,এস,এফ সচল রাখতে কমিটি গঠন করে কন্ট্রিবিউশন আদায় করে মেরামত নিশ্চিত করা জরুরী। আগুন নিভাতে যেমন পানি জরুরী- পি,এস,এফ সচল রাখতে তেমনি কমিটি জরুরী।
অথচ অধিকাংশ এম,এ/কামিল/ইমাম সাহেবের সাহায্য চেয়েও তেমন সাড়া পাচিছ না। জ্ঞানী ব্যক্তিগণের গুরুত্ব দেয়ার কথা জরুরী বিষয়ের তথা পি.এস.এফ এ কমিটি গঠনে সরকারের তরফ থেকে নির্দেশিকাটি পড়ে শুনানোর।

আমি মোরেলগঞ্জের সকল এম,এ/কামিল/ইমাম সাহেবের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি-আপনারা যার যার অবস্থান থেকে এখন থেকেই জনগণকে নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় প্রতি দিনে অন্ততঃ দু’মিনিট সময় ব্যয় শুরু করুন। আল্লাহপাক আমাদের সহায় হউন। আমীন।

প্রনয়নে প্রকৌশলী মোঃ আজিজুর রহমান ,পাটকেলঘাটা,তালা, সাতক্ষীরা-বাংলাদেশ।

বিঃদ্রঃ
পি,এস,এফ(পন্ড স্যান্ড ফিল্টার-যা পুকুরের পানিকে বিশোধন করে থাকে)

0 comments: