মুসলিম সমাজের যে কোন ধরনের আলোচনায় সওয়াবের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়ায় মুসলিম সমাজ-সভ্যতা ধ্বংস হচ্ছে

দোয়া-দরুদ পাঠ করে সওয়াব অর্জন করা ও সৎ কাজ করা কখনো এক হতে পারে না। মুসলমানের কাজ হচেছ সৎ কাজকে প্রতিষ্ঠিত করে অসৎ কাজকে প্রতিরোধ করা। আলো ধরিয়েই অন্ধকার দূর করতে হবে। তদ্রুপ সৎ কাজকে প্রতিষ্ঠিত করেই অসৎ কাজকে প্রতিহত করতে হবে। সওয়াব অর্জনের দ্বারা কখন ও সৎ কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। সওয়াব অর্জন করা হচেছ মার্বেলতুল্য এবং সৎ কাজ করা হচেছ মুক্তাতুল্য। সওয়াব অর্জন করা হচ্ছে পাগড়ীতুল্য আর সৎ কাজ করা হচেছ পাজামাতুল্য।
আমার মতবাদ হচেছ পাগড়ী পরা দরকার, পাজামা পরা জরুরী। আমরা পরনে পাজামা পড়ে থাকি আব্রু ঢাকার জন্য আর মাথায় টুপির উপর পাগড়ী পরে থাকি নেকী বা সওয়াব বাড়াতে। ফরজ আর নফলের মধ্যে তফাৎ হচ্ছে আকাশ-পাতাল। নফল হচেছ এক টাকা আর ফরজ হচ্ছে লক্ষ টাকা। মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেন, ‘‘ লক্ষ নফল দিয়ে ও একটি ফরজের সমান হবে না।” জিকির করা হচ্ছে মাথায টুপির উপর পাগড়ী পরা আর ঝগড়া মিটানো হচেছ পরণে পাজামা পরা।

সওয়াব অর্জন করা হচ্ছে পাগড়ী আর স্বার্থত্যাগ করা হচেছ পরণে পাজামা পরা। বাংলার এম, এ/কামিল/ইমামের মধ্যে কতজন খুঁজে পাওয়া যাবে যারা আমাদের জনগোষ্ঠিকে চব্বিশ ঘন্টায় চার মিনিট সময় ধরে স্বার্থত্যাগে প্রেরনা প্রদান করে থাকেন ?

বাস্তবে অনেক ভ্যানওয়ালাকে ও দেখা যায় তাদের স্বভাবে সমঝোতাবোধ, স্বার্থত্যাগ রয়েছে অথচ অধিকাংশ বি,এ পাস ব্যক্তির স্বভাবে রয়েছে স্বার্থপরতা, সহিংসতা। যাদের স্বভাবে সহিংসতা রয়েছে তারা হচ্ছে সহিংস। সহিংস ব্যক্তিগণ হচ্ছে হিংস্র। হিংস্র পশুকে ও মানুষ পোষ মানিয়েছে কিন্তু মানুষের হিংস্রতা হিংস্র পশুর চেয়ে ও জঘণ্য। ছোটবেলা আমার মা মেজো ভাইকে বলতেন - তোর মনে হিংসা, তুই হচ্ছিস হায়েনা। আমাদের অধিকাংশ হাফেজ সাহেবদের স্বভাবে রয়েছে হিংসা বিদ্বেষ। অধিকাংশ এম.এ/কামিল/ইমাম সাহেবদের স্বভাবেও রয়েছে হিংসা বিদ্বেষ............।

মুসলিম সমাজ-সভ্যতার উন্নয়নে মসজিদ তৈরী করা হয়েছে। সমাজ-সভ্যতার উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য্য হচ্ছে সমঝোতা,স্বার্থত্যাগ ও সচেতনতাবোধ। অথচ কোন মসজিদে চব্বিশ ঘন্টায় চার মিনিট সময় ধরে মুসল্লীগণকে সমঝোতা-স্বার্থত্যাগে প্রেরনা দান করা হয় কি ? বরং অধিকাংশ মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিনের মধ্যে ও সুসম্পর্ক নেই তথা সমঝোতাবোধ নেই, স্বার্থত্যাগ নেই। বাংলার ৯৯% মসজিদে ফজর নামাজবাদ সূরা হাশর পাঠ করে সওয়াব অর্জনের রেওয়াজ চালু থাকলে ও সমঝোতা, স্বার্থত্যাগের কোন আলোচনাও নেই। যা আলোচনায় নেই- তা কি করে আমলে আসে?
অর্থাৎ মসজিদে সমঝোতাবোধ, স্বার্থত্যাগের কোন আলোচনা না হওয়ার কারণে আজ সমাজের মানুষের মধ্যে সমঝোতার অভাব, স্বার্থত্যাগের অভাব। ফলে সমাজের মানুষগুলোকে অহরহ সহিংসতায় লিপ্ত হয়ে পড়তে দেখা যায়।
বরং মসজিদে এমন সব কথাবার্তা বলা হয়, এমন মাসলা দেয়া হয় যাতে মানুষ মারামারিতে লিপ্ত হয়, এমন ফতোয়া দেয়া হয় যাতে ফেৎনা তৈরী হয়।

যে সকল মসজিদে সৎ কাজের গুরুত্ব আলোচনা করা হয় না, সৎ কাজে সাধ্যমত সাহায্য করায় উৎসাহ দেয়া হয় না, পি, এস, এফ মেরামতের মত সৎ কাজে উপদেশ দেয়া হয় না অথচ সূরা হাশর পাঠ করে সওয়াব অর্জনে কোন সমস্যা হয় না ঐ সকল মসজিদ থেকেই সমাজ-সভ্যতা ধ্বংসের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে।
আমাদের স্মরনে রাখা দরকার যে, নামাজ-রোযা পালন করা যেমন ইবাদত, সৎ কাজ করা ও তেমনি ইবাদত। সৎ কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মানুষকে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা। উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা করা হয় পি,এস,এফ তৈরীর মাধ্যমে(যেখানে কোন প্রকার নলকূপ সফল হয় না)। নামায পড়া যেমন জরুরী, পি,এস,এফ মেরামতের মত সৎ কাজে সাধ্যমত সাহায্য-সহযোগিতা করা ও তেমনি জরুরী। যারা জরুরী বিষয়কে গুরুত্ব দেন তারা হচেছন জ্ঞানী। মোরেলগঞ্জের হাজার এম, এ/কামিল/ইমামের মধ্যে কতজন খুঁজে পাওয়া যাবে যারা এহেন জীবনদায়িনী বিষয়টি তথা নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় ২৪ ঘন্টায় ৪ মিনিটি সময় ধরে আলোচনা করে থাকেন? জনগণকে উপদেশ দিয়ে থাকেন?
ঐ সকল ধার্মিক ব্যক্তিগণ হচ্ছে ধর্মান্ধ যারা সওয়াবের গুরুত্ব দিলে ও সৎ কাজের গুরুত্ব আলোচনায় ও প্রাধান্য প্রদান করেন না। যারা সওয়াব অর্জনে সচেষ্ট অথচ সৎ কাজের আলোচনা করতে ও যাদের কষ্ট ওরা এম,এ/কামিল/ইমাম হলে ও ওদের ধর্ম-কর্মে শয়তান হচ্ছে সন্তষ্ট।
বাংলার ৯৯% ধার্মিক ব্যক্তিগণ আমরা কেউবা ধর্মান্ধ, কেউবা ধর্ম সন্ত্রাসী,আমাদেরকে হতে হবে ধর্মভীরু । ধর্মভীরু ব্যক্তিগণ হচ্ছেন মুমিন, আলিম তথা সুশিক্ষিত। ধর্মান্ধরা হচেছ নির্বোধ । ধর্মভীরু ব্যক্তিগণ নামায পড়ায় যতটা পেরেশাণ হবেন পি,এস,এফ সচল রাখায় ও ততটা পেরেশাণ হবেন। মোরেলগজ্ঞের এক হাজার এম, এ /কামিল / ইমাম সাহেবের মধ্যে কতজন খূজে পাওয়া যাবে যারা নামায পড়ায় যতটা গুরুত্ব দেন তার অর্ধেক গুরুত্ব দেন পি, এস, এফ সচল রাখার ক্ষেত্রে।

  • ঐ সকল ধার্মিক ব্যক্তিগণ হচ্ছে ধর্মসন্ত্রাসী যারা দলের জন্য জান দিতে ও প্রস্তুত অথচ দ্বীন কায়েমের স্বার্থে সম্পদ, সম্মান দিতে ও প্রস্তুত নয় । ওরা সৎ কাজে সাহায্য চাইলে অজুহাতে এড়িয়ে যায়।
  • ঐ সকল ধার্মিক ব্যক্তিগণ হচ্ছে ধর্মসন্ত্রাসী যারা নিজেরা বহু দান- সদকা করে থাকেন, জামায়াতে নামায ও পড়ে থাকেন অথচ সমবেত হয়ে সৎ কাজ বাস্তবায়নে দাওয়াত দিলে তারা ঐ সৎ কাজে সিলেবাস, সার্কুলার, দল-দলিল খুঁজে বেড়ান।
ধর্ম সন্ত্রাসীরা দলের লোকের লেখা না হলে পড়তে চায় না, দলের লোকের কথা না হলে শুনতে চায় না। দলীয় কিতাবে না থাকলে দেখতে ও চায় না। দলীয় বৈঠক ছাড়া বসতে ও চায় না।

আসুন আমরা সকল দলমত ভূলে গিয়ে সওয়াব অর্জনের পাশাপাশি পি, এস, এফ মেরামতের মত সৎ কাজ বাস্তবায়নে তাবলীগ করি তথা প্রচার করি, প্রানপণ প্রচেষ্টা করি তথা জিহাদ করি। আল্লাহপাক আমাদের সহায় হউন। আমীন! আমীন!

প্রনয়নে-প্রকৌশলী মোঃ আজিজুর রহমান পাটকেলঘাটা,তালা.সাতক্ষীরা
  • মোরেলগঞ্জ- বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলাধীন একটি উপজেলা

0 comments: