পড়া ছেড়ে দিয়ে,মোদের কপাল পুড়েছে

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের প্রথম নাজিলকৃত শব্দটি হচ্ছে পড়। জানার জন্য পড়া, শেখার জন্য পড়া, বুঝার জন্য ও পড়া। জ্ঞান অর্জনের জন্যও পড়া। জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়া দরকার, পরামর্শ করা জরুরী, চিন্তা-ভাবনা করা অতীব জরুরী। আমাদের অনেকেরই হয়ত বা পড়ার সময় নেই,পরামর্শ করা কিংবা মত বিনিময়ের সময় করে নেয়া যায় কি? চিন্তা-ভাবনা করার তো প্রত্যেকেরই সময় থাকা উচিৎ।

বাংলার মানুষের মহারোগ হচেছ তিনটি যথাঃ- রোগীর চেয়ে ডাক্তার বেশী,ছাত্রের চেয়ে শিক্ষক বেশী, বলার আগে আমরা বুঝে ফেলি-শোনার ও সময় নেই, ভাবার ও সময় নেই। না ভাবলে হতে হয় বল ....। চিন্তায় চেতনা বাড়ে, গবেষণায় জ্ঞান বাড়ে।
গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করার নাম গবেষণা। চিন্তা-ভাবনা (গবেষণা ) না করলে জ্ঞানী হওয়া যায় না। জ্ঞানী হওয়ার জন্য চিন্তা-ভাবনা, গবেষণা জরুরী, সনদপত্র জরুরী নয়। জ্ঞানী হওয়ার ক্ষেত্রে যারা সনদপত্র তালাশ করে তারা নিশ্চয়ই জ্ঞানী নয়।

চিন্তায় চেতনা বাড়ে, চেতনা থাকলে চিমটি কাটলে ও কষ্ট লাগে। চেতনা না থাকলে কোপ দিলে ও কষ্ট লাগে না। বাংলার একহাজার এম,এ পাস ব্যক্তির মধ্যে কতজন খুজে পাওয়া যাবে যারা ২৪ ঘন্টায় মানব কল্যানে তথা সমাজ-সভ্যতার উন্নয়নে ২৪ মিনিট আলাপ-আলোচনা করে থাকেন? বয়ান করে থাকেন? সাধারণ মানুষগুলো শিক্ষিত মানুষগুলোকে দেখে শিখে থাকে। কথায় বলে দেখাদেখি চাষ, পাশাপাশি বাস।

যে সকল এম,এ পাস ব্যক্তি সমাজ-সভ্যতার উন্নয়নে চিন্তা-ভাবনা করে না তারা হচেছ আত্মকেন্দ্রিক। আত্মকেন্দ্রিক মানুষগুলো আকৃতিতে থাকে মানুষ-স্বভাবে থাকে না মনুষ্যত্ববোধ। মনুষ্যত্ববোধ তথা বিবেকবোধই মানুষকে পৃথিবীর বুকে অন্যান্য প্রানীকূল থেকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন করেছে। জ্ঞান বিবেকের উৎকর্ষতায় মানুষ ফিরিশতা থেকে ও হয় উৎকৃষ্ট। জ্ঞান বিবেকের বিপর্যয়ে মানুষ চতুষ্পদ জন্তু থেকে ও হয় নিকৃষ্ট।

চতুস্পদ জন্তুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিয়াল। শিয়ালের স্বভাবে যে সমঝোতাবোধ রয়েছে তা হয়ত বা আমার মত শিক্ষিত লোকের স্বভাবে নেই। চতুস্পদ জন্তুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভেড়া। ভেড়ার স্বভাবে যে একতাবোধ রয়েছে তা হয়ত বা আমার মত শিক্ষিত লোকের স্বভাবে নেই। চতুস্পদ জন্তুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কুকুর। কুকুরের স্বভাবে যে কৃতজ্ঞতাবোধ রয়েছে তা হয়ত বা আমার মত শিক্ষিত লোকের স্বভাবে নেই।

গুড বেটার যেমন এক নয়, দরকার ও জরুরী তেমনি এক নয়, পাগড়ীর প্রয়োজনীয়তা ও পাজামার প্রয়োজনীয়তা ও তেমনি এক নয়। আমাদেরকে পাগড়ী ও পাজামার প্রয়োজনীয়তা আগে বুঝতে হবে। আমরা পাগড়ী নিয়ে পেরেশাণীতে পাজামা খুলে ফেলছি বাংলার মুসলমানগণ। যেমনঃ- সওয়াব অর্জন করা দরকার-পি,এস,এফ মেরামতে কমিটি গঠন করা জরুরী। সওয়াব অর্জন করা হচেছ মাথায় টুপির উপর পাগড়ী পরা আর পি,এস,এফ মেরামতে কমিটি গঠন করা হচেছ পরনে পাজামা বা লুঙ্গি পরা। সওয়াব অর্জন করা ও সৎ কাজ করা এক নয়। পি,এস,এফ এ কমিটি গঠন করা একটি সৎ কাজ। কেননা আগুন নিভাতে যেমন পানি জরুরী, পি,এস,এফ সচল রাখতে ও তেমনি কমিটি গঠন জরুরী।

মোরেলঞ্জের(বাগেরহাট এর একটি উপজেলা) মারাত্মক দুটি সমস্যার বিষয় বিবেচনা করলে ও তার মধ্যে একটি সমস্যা হচেছ নিরাপদ পানির অভাব । অত্র মোরেলগঞ্জসহ সকল উপকূলীয় উপজেলায় যেখানে নলকূপ অসফল, সেখানে নিরাপদ পানির উৎস হচেছ পি, এস,এফ তথা পুকুর পাড়ে বালির ফিল্টার। নিরাপদ পানির অপর নাম জীবন। অথচ এক হাজার কামিল পাস ব্যক্তির মধ্যে কত জন খুজে পাওয়া যাবে ? যারা ২৪ ঘন্টায় এক ঘন্টা তাদের তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে পি, এস,এফ,মেরামতের মত জনগুরুত্বপূর্ন বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে বয়ান করে থাকেন। কোন দোকানে যেমন সকল ধরনের পন্য পাওয়া যায়না,তদ্রুপ কোন জ্ঞানী ব্যক্তিই সকল ধরনের জ্ঞানে জ্ঞানী নহেন। এক এক দোকানে যেমন এক এক ধরনের পন্য পাওয়া যায় ,তদ্রুপ এক এক ব্যক্তি এক এক বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করবেন, গবেষণা করবেন।

আমি আজিজুর রহমান,উপ-সহকারী প্রকৌশলী হয়ে ও নিরাপদ পানি ,স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনায় ও শান্তি-শৃঙ্খলায় তিনটি মাত্র সুন্নত নিয়ে গবেষণা করে চলেছি রাত জেগে। এ বিষয়ে অদ্যাবধি আমি প্রায় শতাধিক প্রবন্ধ লিখেছি যার কিছু কিছু প্রবন্ধ আঞ্চলিক এবং জাতীয় পত্র-পত্রিকায় ও প্রকাশিত হয়েছে।

আমি মোরেলগজ্ঞের সকল এম,এ পাস/কামিল পাস/ইমাম সাহেবদের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি আপনারা আমার লেখা প্রবন্ধগুলো দয়া করে( যা পি,এস,এফ এর উপর লেখা ) পড়ুন,পরামর্শ দিন (দলিল দিয়ে)। যদি বিভ্রান্তিকর হয় তবে সংশোধন করে নিব, প্রয়োজনে পূড়িয়ে ফেলব। সচেতন ব্যক্তি জানেন পি,এস ,এফ তৈরী করা দরকার-পি,এস,এফ সচল রাখা জরুরী । পি,এস,এফ নতুন তৈরীর ব্যাপারে আমরা যতটা সচেষ্ট, পুরাতন পি,এস,এফ সচল রাখার ব্যাপারে কমিটি গঠনে ততটা সচেষ্ট আছি কি ?
প্রনয়নেঃ-প্রকৌশলী মোঃ আজিজুর রহমান পাটকেলঘাটা,তালা সাতক্ষীরা।

0 comments: